শান্তিচুক্তিবিরোধীদের অস্ত্র সরবরাহ করা হতো

সরকারি অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে তা পুলিশ কনস্টেবল জেনাল চাকমা ও প্রেম চাকমার মাধ্যমে সরবরাহ করা হতো শান্তিচুক্তিবিরোধী শক্তিকে। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগার থেকে গুলি ও অস্ত্র বের করার দায়িত্বে ছিলেন পুলিশের আরেক কনস্টেবল মাসুদ মিয়া। সেই অস্ত্র ও গুলি বিভিন্ন সংগঠনের লোকজনকে পৌঁছে দিতেন জেনাল ও প্রেম।
সম্প্রতি রাজধানীর কাফরুলে ৫০০টি গুলিসহ গ্রেপ্তার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য জেনাল চাকমা ও প্রেম চাকমা আজ বুধবার তাঁদের জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানান।
ছয় দিনের রিমান্ড শেষে পুলিশের ওই দুই সদস্যকে আজ আদালতে হাজির করে তাঁদের জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন করে ডিবি পুলিশ। পরে মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান তাঁর খাসকামরায় তাঁদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জবানবন্দিতে দুই পুলিশ সদস্য বলেন, তাঁরা দুজন শান্তিবাহিনীর সদস্য ছিলেন। ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি হওয়ার পরের বছর তাঁরা অস্ত্র সমর্পণ করে পুলিশে যোগ দেন। ২০০৯ সাল থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগার থেকে তাঁদের গুলি বের করে দিতেন কনস্টেবল মাসুদ মিয়া। শান্তিবাহিনীর সাবেক সদস্য হওয়ায় অর্থ লেনদেন ও অস্ত্র বহনে তাঁদের ব্যবহার করা হয়েছে।
দুই পুলিশ সদস্য আরও বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ হাজার গুলি ও অস্ত্র সরবরাহ করেছেন তাঁরা। পার্বত্যাঞ্চলীয় সংগঠন জেএসএস, ইউপিডিএফসহ বিভিন্ন সংগঠনের লোকজন তাঁদের কাছে টাকা দিতেন। ওই টাকা নিয়ে মাসুদ মিয়া অস্ত্র সরবরাহ করতেন।
কনস্টেবল প্রেম চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় এবং জেনাল চাকমার বাড়ি রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায়।
পুলিশ কনস্টেবল মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরী আজ রিমান্ডের আদেশ দেন। ডিবি পুলিশ তাঁকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল।

ব্লগার

পোষ্টটি লিখেছেন: ব্লগার

এই ব্লগে 25 টি পোষ্ট লিখেছেন .

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।

ব্লগার

About ব্লগার

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।
Bookmark the permalink.

Comments are closed.