আ.লীগ ক্ষমতায় আসলে মসজিদে ঢুকে মুসল্লি পেটায়, বৌদ্ধবিহারে হামলা করে

উখিয়ার সমাবেশে খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সে নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। সরকার নিজেরা সংবিধান সংশোধন না করলে আন্দোলন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে বাধ্য করা হবে। কোন দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। বিএনপি মূলত নির্বাচনমুখী দল। অপরদিকে আওয়ামী লীগ মানুষের আস্থা হারিয়েছে বলে নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে ভয় পায়। উখিয়া-রামু ও টেকনাফের ঘটনায় সরকার দলীয় লোকজন জড়িত। এ জন্য সরকার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। দোষীদের বিচার না হলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আস্থা ফিরে আসবে না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনার সুষ্ঠ বিচার করা হবে। তিনি বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে কখনও নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না। গতকাল ১১ নভেম্বর রবিবার বেলা ১১টায়  কক্সবাজারের উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষনে তিনি এ কথা বলেন। কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেন,  আওয়ামীলীগ সরকার মুখে বলে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা। কিন্তু তারা ক্ষমতায় আসলে মসজিদে ঢুকে মুসলিস্নদের পেটায় এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ বিহারে হামলাসহ হিন্দুদের জমি-জমা জবরদখলসহ ব্যাপক লুটপাট চালিয়ে সবকিছু কেড়ে নেয়। আওয়ামী লীগের কাছে কোন ধর্মের লোক নিরাপদ নয়। তাদের হাতে দেশও নিরাপদ নয়। আজ সারা দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ মুহূর্তে দেশকে রক্ষা করার জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।বেগম জিয়া বলেন, আওয়ামীলীগ নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে যে ওয়াদা দিয়েছিল তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এসরকার শুধু ব্যর্থ নয়, এ সরকার অযোগ্য অপদার্থ সরকার। এ সরকার দেশের যেমন ক্ষতি করে দেশকে পিছিয়ে নিয়েছে, তেমনি দেশের অর্থনীতি বিপদগ্রস্ত করেছে। দেশের উন্নয়নমুখী প্রতিষ্ঠান কলকারখানা পঙ্গু করে দিয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে।তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধকে বিশ্বাস করে। সকল ধর্মের মানুষ যাতে নিজ নিজ ধর্ম এক সাথে পালন করতে পারে, সেজন্য আমরা তৎপর থাকি। এদেশের মুসলমানেরা আওয়ামীলীগের হাতে নিরাপদ নয়। দেশকে বাঁচাতে গেলে ধর্ম কর্মকে রক্ষা করতে হলে এদেশের যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। তারা ঘরে ঘরে চাকুরি দেওয়ার কথা, ১০ টাকা করে চাল ও বিনামূল্যে সার দেওয়ার কথা বলে মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। নির্বাচনের সময় যারা ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা খেলাপ করেছে তাদেরকে কোনভাবে বিশ্বাস করা যায় না। তারা নিজেরাই বৌদ্ধ বিহার পুড়িয়ে দিয়ে লুটপাট করেছে, আর আসামি করা হয়েছে বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের নামে। এসরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই বিডিআর হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে বৌদ্ধ মন্দিরের অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যারা জড়িত উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরীসহ অপরাপর জড়িতদের নিয়ে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ সফর করেছে। প্রধান মন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তিনি চোর আর খুনিদের নিয়ে মিটিং করেন আর শেরাটন হোটেল থেকে নাসত্মা এনে তাদের খাওয়ান। এ হচ্ছে আওয়ামীলীগের চরিত্র। বেগম জিয়া বলেন, পদ্মা সেতু, হলমার্ক, ডেসটিনির নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। তিনি এ সরকারকে বিশ্ব দুর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে বলেন, শেয়ার বাজারের অর্থ কেলেংকারি করে সম্পৃক্ত ৩০ লাখ মানুষকে পথে বসিয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধান মন্ত্রী নিজেই অবৈধ, কেননা সে শপথ গ্রহণ করার সময় প্যারোলে মুক্তি ছিল। এ অবৈধ সরকারের কোন কার্যক্রমই বৈধ হতে পারে না। বিএনপির চেয়ারপার্সন শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত চরিত্র ও তার উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, শাহজাহান চৌধুরী এলাকায় টিভি রিলে স্টেশন, টেকনাফ বন্দর ও মেরিন ড্রাইভ সড়ক উন্নয়ন ছাড়াও এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছে। আপনারা যদি তাকে ভোট দিতে ভুল করেন তাহলে আপনারাই দায়ি থাকবেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশে আবারও বিনোয়োগ বাড়বে, আমদানী-রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, বেকারদের কর্মসংস্থান করা হবে, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যে ন্যায্য মূল্য দেওয়া হবে। প্রয়োজন বশত ভূতুর্কি দিয়ে হলেও কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখা হবে। বিরোধী দলীয় নেতা তার দলের নেতাকর্মীদের জড়িয়ে যে সব মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। উক্ত মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবি জানান। বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামীলীগের সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামীলীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবার দেশকে পিছনে নিয়ে গেছে। দেশের উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হলেও এসরকারের নেতাকর্মীরা নিজেরা আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন শামিত্ম ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়। বিএনপির রাজনীতি দেশের উন্নয়ন উৎপাদন ও জনগণের কল্যাণে রাজনীতি। আর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে দেশে লুটপাট, দখল-বেদখল, শশ্মান দখল, কবরস্থান দখল, টেন্ডার বাজি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য, সন্ত্রাস, হত্যা, মানুষ গুম, ছিনতাই ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়। এর আগে বিরোধী দলীয় নেত্রী পশ্চিম মরিচ্যার ক্ষতিগ্রস্ত দীপাংকুর বৌদ্ধ বিহার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে বসতবাড়ি পরিদর্শন করেন।সম্প্রীতি সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহাম্মদ, মির্জা আববাস, ড. আব্দুল মঈন খাঁন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সেলিনা রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন-মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, চট্টগ্রাম উত্তর বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপার্সন এর উপদেষ্টা অবসর প্রাপ্ত মেজর জেনারেল রম্নহুল আলম চৌধুরী। জেলা বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক আকতার চৌধুরী ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোক্তার আহামদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির যুগ্ন-মহাসচিব বরকত উলস্নাহ ভুলু, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর শামশুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সুকোমল বড়ুয়া, ড. আরিফা নাসরিন,  মহিলা দলের সভাপতি নুরে আরা সাফা, পূর্ব রত্মা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ জ্যোতি ভিক্ষু মহাথের, কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর উলস্নাহ বাহার, বিএনপি নেত্রী বেগম হাসনা মওদুদ, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী বেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় ওলামা দলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাওলানা আব্দুল মালেক, বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি সাচিং প্রম্ন জেরি, কর্ণেল (অব:) মনি স্বপন দেওয়ান, চট্টগ্রাম বিএনপি নেতা নুর মোহাম্মদ, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শহিদুজ্জামান, কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির মো. শাহজাহান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, এটিএম নুরম্নল বশর, এস.এম শাহ আলম, এডভোকেট আব্দুল মান্নান, রফিকুল ইসলাম, চেয়ারম্যান দীপক বড়ুয়া, অধ্যাপক আজিজুর রহমান, আকতার হোসেন কুতুবী, হামিদ উদ্দিন ইউছুপ, কাজী রফিক উদ্দিন, অধ্যাপক তহিদুল আলম তহিদ, খাইরম্নল আলম চৌধুরী, টেকনাফ বিএনপির সভাপতি সরওয়ার কামাল চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান সিদ্দিকী, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নুরম্নল আলম আল মামুন, জেলা বিএনপির যুগ্ন-সম্পাদক আবু ছিদ্দিক ওসমানী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছৈয়দ আহমদ উজ্জল, মহেশখালী বিএনপির সভাপতি এড. নুরম্নল আলম, কুতুবদিয়া বিএনপির সভাপতি জালাল আহামদ, জেলা মৎস্য দল সভাপতি হামিদ উদ্দিন ইউছুপ গুন্নু, টেকনাফ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দু রাজ্জাক, উখিয়া বিএনপি নেতা দলিলুর রহমান শাহীন, সেলিম উদ্দিন, সিরাজুল হক ডালিম, আব্দুল মালেক মানিক, জালাল উদ্দিন ড্রাইভার, উখিয়া যুবদলের সভাপতি হামিদ হোছন সাগর, সাধারণ সম্পাদক জামাল মাহমুদ, টেকনাফ যুবদলের সভাপতি রাশেদুল করিম মার্কিন, উখিয়া ছাত্রদলের আহবায়ক আহসান উলস্নাহ প্রমুখ।

ব্লগার

পোষ্টটি লিখেছেন: ব্লগার

এই ব্লগে 25 টি পোষ্ট লিখেছেন .

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।

ব্লগার

About ব্লগার

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।
Bookmark the permalink.

Comments are closed.