ভাংচুর,————– অতঃপর

Hartalভাংচুর শব্দটি আমাদের কাছে খুব পরিচিত একটি শব্দ। কেননা, ইদানীং প্রায় প্রতিদিনই ভাংচুর হচ্ছে। বিশেষ করে, আমাদের দেশে রাজনৈতিক কারণেই এই সব ভাংচুর, গাড়িতে আগুণ কিংবা পুলিশের উপর হামলা ইত্যাদি হয়ে থাকে। দেশে যে সরকারই আসুক না কেন বি এন পি বা আওয়ামীলীগ, তাদের রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা কম বেশি এই ভাংচুরে লিপ্ত থাকেন। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে রাজনৈতিক কারণে এ ধরণের ভাংচুর আছে কিনা সন্দেহ! নিরপেক্ষভাবে বলতে গেলে রাজনৈতিক কর্মীদের এসব ভাংচুর আইন দ্বারা সিদ্ধ নয়। কিন্তু সত্যি কথা হল ভাংচুরের মাধ্যমে কখনো রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ভাংচুরের কারণে অনেক প্রকারের ক্ষতি হয়ে থাকে। প্রথমত, যখন কোন ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়িতে ভাংচুর বা আগুন দেওয়া হয়, যার কারণে গাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে কমপক্ষে সেই ব্যক্তির ১০ লক্ষ বা ২০ লক্ষ বা আরো অধিক টাকা পুরোটাই মাটি হয়ে যায়। অনেক সময় এই ভাংচুরের কারণে একটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। যখন গাড়িতিই কোন মানুষের একমাত্র অবলম্বন হয়। গাড়িটি যদি আওয়ামী সর্মথক দ্বারা ধ্বংস করা হয় তাহলে হয়ত সেই ব্যক্তি মনে হয় কখনো আওয়ামীলীগ সর্মথন করবেন না। অন্যদিকে সেটা যদি বিএনপি সর্মথক দ্বারা করা হয় তাহলে হয়ত তিনি কখনো বিএনপি সর্মথন করবেন না। অন্যদিকে সেটা যদি অন্যদল যেমন: জামায়াত-শিবির, এলডিপি বা জাতীয় পার্টি দ্বারা করা হয় তিনি কখনো মনে হয় সেই দল সর্মথন করবেন না। তাছাড়া সেই ব্যক্তি এই লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের জন্য নিশ্চয়ই দুর্নীতির আশ্রয় নেবেন। যেটা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলবে।
দ্বিতীয়তঃ গাড়ি ভাংচুর বা আগুন দেওয়ার কারণে আরেকটি বড় ক্ষতি হয় সেটা হল মৃত্যুর পর। আমরা যে বা যারা এই ভাংচুর করি তাদেরকে অবশ্যই মৃত্যুর পরে সেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে সেটা নিঃসন্দেহে। সেই ক্ষতি হল কবরের আজাব যেটা মৃত্যুর পর অবশ্যই গ্রহন করতে হবে। আমরা যে বা যারা এই সব ভাংচুর করি এর ফলে অন্যের হককে নষ্ট করছি। পবিত্র কোরআনে অন্যের হক সম্পর্কে বড় ধরণের শাস্তির কথা বলা আছে। যেমন হাদিসে আছে- অন্যের হকের কারণে একজন শহীদকেও জাহান্নামে প্রবেশ করতে হয়। অন্য ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে অন্যের হক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিধান আছে। ভাংচুরকারীদের মধ্যে আমরা কেউ মুসলমান বা হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্মের লোক। তাই আমাদের প্রত্যেককে এই ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। যেটা অবশ্যই দুনিয়া এবং মুত্যুর পরে আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। দুনিয়ার আরেকটি নিয়ম হল আমি যদি কারো ক্ষতি করি তাহলে সেই ক্ষতি হয়ত অন্যের মাধ্যমে আমারও হতে পারে। সুতরাং আমরা যারা এই সব কাজ করি আমাদের নিজেদের সতর্ক থাকা উচিত যেহেতু আমাদের প্রত্যেককে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে।
তৃতীয়ত, আমরা সাধারণত ভাংচুর করে থাকি আমাদের অধিকার, রাজনৈতিক দাবি দাওয়া আদায়ের আন্দোলনকে সফল করার জন্য। আমরা উন্নত দেশগুলোকে বিভিন্নভাবে অনুসরণ করি। যেমনঃ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রযুক্তি সহ বিভিন্নক্ষেত্রে। যেসব উন্নতদেশগুলোকে আমরা মডেল হিসাবে মেনে চলি, সেসব দেশগুলোতে অনেক সময় আমাদের মত অধিকার, বিভিন্ন দাবি দাওয়ার জন্য আন্দোলন করা হয়। কিন্তু আমাদের মত ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ছাড়াই সেসব দেশে আন্দোলন সফল হয়। আমরা কি পারি না তাদেরকে অনুসরণ করতে ?
তাই, সব রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী, তথাপি বাংলাদেশের সব জনগণের কাছে আমার অনুরোধ, আমরা যেন সবাই আমাদের নিজেদেরকে দুনিয়া এবং মৃত্যুর পরে বাঁচানোর স্বার্থে এইসব কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখি। এই বিরত রাখাই আমাদের নিজেদের এবং দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

পোষ্টটি লিখেছেন: ছিদ্দিকী বিন জাফর

এই ব্লগে এটাই ছিদ্দিকী বিন জাফর এর প্রথম পোষ্ট.

Bookmark the permalink.

Comments are closed.