একটি গোপন গণহত্যা – আল জাজিরা রিপোর্ট


এই বছরের(২০১২ সালে) শুরুর দিকে পশ্চিম মায়ানমারে একজন বৌদ্ধ মহিলা ধর্ষিত এবং খুন হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ এর জন্য তিন জন মুসলিমকে গ্রেপ্তার করেছিল। এক সপ্তাহ পরে সেই খুনের প্রতিশোধ হিসেবে ১০ জন মুসলিমকে হত্যা করা হয়। এর পরবর্তীতে কি হয়েছিল, তা ছিল বহিঃর্বিশ্বের কাছে অজানা।

বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের রক্তের বন্যা বয়েছিল। অনেক রোহিঙ্গা মুসলিম নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়েছে, আর তাদের সেই সব ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, এটা মূলত সংখ্যালঘু  রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশ থেকে বের করার জন্য মায়ানমারে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী সরকারের সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
মুহাম্মদ ইসলাম নামে এক ব্যাক্তি যে সেখান থেকে তার পরিবারসহ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, তার ভাষ্যমতে, ” তারা আমাদের গুলি করছিল, আর আমরাও যুদ্ধ করছিলাম। জায়গাগুলো লাশে পুর্ণ হয়েছিল এবং লাশগুলো রক্তে ভিজছিল।”

প্রায় ৪০০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছে। তিন দশকের অধিক সময় থেকে, তারা মায়ানমার থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার মনে করে তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা।আর মায়ানমার সরকারও মনে করে তারা সে দেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদের কোন বৈধ অধিকার এবং যাওয়ার কোন জায়গা নেই।

এটা সেই সব মানুষের গল্প, যারা তাদের মাতৃভুমি ছেড়ে পালাচ্ছে, যেখানে তাদের জন্ম হয়েছিল, যেই সব মানুষকে তাদের নিজ জন্মভুমিতে দেওয়া হচ্ছে না জাতীয়তা। এটা পশ্চিম মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের গল্প, যারা সেখানে নিগৃহীত।

ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশান অব জিনোসাইড স্কলারস -এর সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর উইলিয়াম ছাবাস বলেন, ” যখন আপনি দেখবেন কারো লক্ষ্য ও কাজে , জন্ম প্রতিরোধ করা হচ্ছে, মানুষের পরিচিতি অগ্রাহ্য করা হচ্ছে, দেখতে চায় তাদের শেষ পরিনতি, যেন তাদের অস্থিত্ব আর না থাকে, তাদের ইতিহাসকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে, তারা যেখানে বসবাস করছে সেখানেই তাদের বৈধ বসবাস করার অধিকার অগ্রাহ্য করা হচ্ছে, সবগুলো হচ্ছে গণহত্যার সতর্ক সংকেত। অর্থাৎ এটা একটা ইচ্ছাকৃত গণহত্যা।”

arakanblood

পোষ্টটি লিখেছেন: arakanblood

Arakan Blood এই ব্লগে 3 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Bookmark the permalink.

Comments are closed.