রামুর ঘটনায় সরকার জড়িত: মির্জা ফখরুল

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বৌদ্ধ বসতিতে হামলার ঘটনায় সরকার জড়িত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নিরপেক্ষ বিচারপতির মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার সকাল ১০টায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিনিধি সভা-২০১২ এর উদ্বোধনী বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।

ঘটনার তদন্তের আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, সরকারের মদদে বৌদ্ধ বসতিতে ঘটনা ঘটিয়ে এখন বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপাতে চাইছে। এ জন্যই তদন্তের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি তার বক্তব্য নিরপেক্ষ ব্যক্তির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি  করেন।

কারা দোষী ও নেপথ্য উস্কানিদাতা তাদের খুঁজে বের করে কঠোর  শাস্তির ব্যবস্থা করারও দাবি জানান তিনি। যাতে আগামীতে এ ধরনের ঘটনা আর সংঘটিত না হয় সে জন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টোরির সেমিনার কক্ষে ছাত্র দলের এ প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘রামুর ঘটনায় বিএনপি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাস ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ আবহমানকাল ধরে শান্তি ও সম্প্রীতির মধ্যে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। এই ধর্মীয় সম্প্রীতি আমাদের উজ্জ্বল ঐতিহ্যের অংশ।’’

পদ্মাসেতু নির্মাণ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংককে ফিরে আসতে বাধ্য করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের দাম্ভিক এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, বিশ্বব্যাংকের অগ্রগ্রামী দলের আসার কথা ছিলো, তারা আর আসছেন না। কারণ, ওই প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলো। কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।

আওয়ামী লীগের হাতে দেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব হুমকির মুখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে ছাত্রদলকে ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হবে।

ফখরুল বলেন, ‘‘ছাত্রদলকে একটি সৃজনশীল ছাত্র সংগঠন হিসেবে দেখতে চাই। ছাত্রনেতাদের প্রতি আহবান থাকবে, কোনো ব্যক্তি বা বন্ধু-বান্ধবের দিকে তাকিয়ে নয়, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করুন।’’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের সভাপতিত্বে প্রতিনিধিসভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এমপি, সহ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, সিনিয়র সহ সভাপতি বজলুল করীম চৌধুরী আবেদ, যুগ্ম সাধারণ ওবায়েদুল হক নাসির, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হাসান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সারা দেশ থেকে এ প্রতিনিধি সম্মেলনে ৬৮টি সাংগঠনিক জেলা, ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৬ মহানগরের সভাপতি সম্পাদক এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কেন্দ্রর ১০ ছাত্রনেতাসহ মোট ১৮০ জন ছাত্রনেতা প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেন।

ব্লগার

পোষ্টটি লিখেছেন: ব্লগার

এই ব্লগে 25 টি পোষ্ট লিখেছেন .

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।

ব্লগার

About ব্লগার

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।
Bookmark the permalink.

Comments are closed.