আলেমদের রক্তে ভাসছে শাপলা চত্বর : রাস্তায় পড়ে আছে শত শত হেফাজত কর্মীর নিথর দেহ

m1b
May 6, 2013
শাপলা চত্বরে রক্তের বন্যা বইছে। কালো পিচঢালা রাজপথে এখন পানির মতো গড়িয়ে যাচ্ছে তাজা রক্ত। এ রক্ত যৌথবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের শিকার আলেমদের।শাপলা চত্বর থেকে হেফাজত ইসলামের কর্মী আলেম ওলামাদের সরিয়ে দিতে এ অভিযানে কতজন লোক মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন তার কোনো পরিসংখ্যান তাত্ক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে টিভির লাইভ ফুটেজে বহু লোককে রাস্তার পাশে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে তাজা রক্তের ফোয়ারা। প্রাথমিকভাবে ৩০ থেকে ৪০ জনের মারা যাওয়ার দাবি করেছে হেফাজত।
ঘড়ির কাটায় রাত ২টা ৩০ মিনিট। কেঁপেওঠে ঢাকা শহর। শুধু গুলি আর গ্রেনেডেরআওয়াজ। যৌথ বাহিনীর সাজোয়া যানের সাইরেনে সৃষ্টি হয় একটি একতরফা যুদ্ধের পরিস্থিতি। বিজিবি, র‌্যাব আর পুলিশের হাজার হাজার সদস্য ঝাপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র হেফাজত কর্মীদের ওপর। মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, ইত্তেফাক মোড়সহ আশপাশের এলাকা পরিনত হয় এক নারকীয় বধ্যভুমিতে। গুলি আর বোমার সামনে ঠিকতে না পেরে সরে যেতে বাধ্য হন সমাবেশস্থলে বসে থাকা নিরস্ত্র লাখো আলেম ওলামা। অনেকে হতাহত হয়ে রাস্তা পড়ে থাকেন। বাকিরা আশ্রয় নেন বিভিন্ন গলিতে।
যৌথ বাহিনী এরপর অভিযান চালায় গলিগুলোতে। সেখান থেকেও পিটিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়।

[হেফাজতে ইসলামের নিরস্ত্র কর্মীদের উপর হামলার দৃশ্য]

র‌্যাব-বিজিবির যৌথ অভিযানে আহত শত শত হেফাজত কর্মীর নিথর দেহ মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে পড়ে আছে। অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে তাদের হাসপাতালে নেয়া যাচ্ছে না।
এদিকে, অভিযানে কতজন হতাহত হয়েছেন তাএখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাস্তায় পড়ে থাকা এসব হেফাজত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কতজন মারা গেছেন তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাস্তায় পড়ে থাকা এসব হেফাজত কর্মী-সমর্থকের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ এবং মুমুর্ষু। আহত অনেকে সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করছে। অবশ্য আশাপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসার মতো কেউ ছিল না।
এদিকে, ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের প্রচার সেলের প্রধান মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াসেল অভিযানে অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থক শাহাদত বরণ করেছেন বলে দাবি করেন। অনেক লাশ গুম করা হয়েছে বলেও অভিযাগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, আশপাশের এলাকার হাসপাতালে দুপুর থেকেই আহতদের ভিড় রয়েছে। নতুন করে চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। আহতদের আর্তনাদে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

 

সর্বশেষ অবস্থা মতিঝিলের, ভোর ৫ টা, ৬ মে, ২০১৩ সোমবার।

ব্লগার

পোষ্টটি লিখেছেন: ব্লগার

এই ব্লগে 25 টি পোষ্ট লিখেছেন .

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।

ব্লগার

About ব্লগার

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।
Bookmark the permalink.

Comments are closed.