কৃত্রিম স্বচ্ছ মাটি

স্বচ্ছ মাটিতে লেটুস পাতার জন্ম

সম্প্রতি স্বচ্ছ জেলির মতো এক ধরনের কৃত্রিম মাটি তৈরিতে সফল হয়েছেন গবেষকেরা। উদ্ভিদের বৃদ্ধিসংক্রান্ত গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য এ কৃত্রিম মাটি তৈরি করেছেন স্কটল্যান্ডের গবেষকেরা। স্বচ্ছ এ মাটি উদ্ভিদের মূলের কাঠামো বৃদ্ধি এবং মাটির নিচের বাস্তুসংস্থান সম্পর্কে গবেষণার কাজে লাগানো যাবে।
স্কটল্যান্ডের জেমস হাটন ইনস্টিটিউট ও এবার্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা কৃত্রিম এ মাটি তৈরি করেছেন। জেমস হাটন ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বচ্ছ এই কৃত্রিম মাটি প্রসঙ্গে জেমস হাটন ইনস্টিটিউটের তাত্ত্বিক জীববিজ্ঞানী ও গবেষক লিওনেল দুপাই জানিয়েছেন, কৃত্রিম এই মাটি তৈরিতে দুই বছর ধরে গবেষণা করেছেন তঁারা। এই মাটির সঙ্গে প্রকৃতিতে থাকা মাটির সাদৃশ্য নেই। এ মাটি দেখতে অনেকটাই পঁিপড়ার খাবার ও পানি ধরে রাখার জন্য তৈরি এক ধরনের জেলির মতো। কৃত্রিমভাবে তৈরি স্বচ্ছ এ মাটিতে প্রাকৃতিক মাটির মতোই পুষ্টি, ব্যাকটেরিয়া ও গ্যাস ধরে রাখার মতো গুণাগুণ রয়েছে, যাতে উদ্ভিদ বেড়ে উঠতে পারে।
`পিএলওএস ওয়ান’ সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এ মাটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে নাফিওন নামের এক ধরনের পদার্থ, যাকে বলা হয় সালফোনেটেড টেট্রাফ্লুরোইথিলিনভিত্তিক ফ্লুরোপলিমার-কোপলিমার। এ পদার্থ ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। নাফিওন মূলত স্বচ্ছ হলেও গবেষকেরা উদ্ভিদবিদ্যাসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করতে একে আরও স্বচ্ছ করেছেন। পলিমারের সঙ্গে আরও রাসায়নিক উপাদানযুক্ত করে এই কৃত্রিম মাটি তৈরিতে সফল হয়েছেন তঁারা।
গবেষকেরা জানান, কৃত্রিম মাটি উদ্ভিদের মূল গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যাবে, যা শস্য উত্পাদনের কাজে কম সারের প্রয়োজনীয়তা কমাতে সক্ষম হবে। এ ছাড়া উদ্ভিদ ও ব্যাকটেরিয়ার বিভিন্ন বাস্তুসংস্থান গবেষণা করা সম্ভব হবে। বর্তমানে গবেষকেরা এ মাটি তৈরির খরচ কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছেন।

পোষ্টটি লিখেছেন: নাঈমুল ইসলাম

নাঈমুল ইসলাম এই ব্লগে 2 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Bookmark the permalink.

Comments are closed.