গুগলের চালকবিহীন গাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় এবার চলবে গুগলের চালকহীন সুনিয়ন্ত্রিত গাড়ি। সরকারি অনুমতি জুটেছে আগেই। অপেক্ষা ছিল চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার। এবারে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর জেরি ব্রাউনও দিলেন পথে চলার অনুমতি। সংবাদমাদ্যম সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এ হিসেবে আগামী ২০১৫ সালের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সড়কে গুগল নিয়ন্ত্রিত চালকহীন গাড়ি চোখে পড়বে। এতে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে প্রকল্প বিশেষজ্ঞেরা অভিমত দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এ মুহূর্তে বছরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর গড়ে ৪০ হাজার লোক সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন। এ অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। আর এমন অবস্থা চলতেও দেওয়া যায় না।

মাউনটেন ভিউয়ে অবস্থিত গুগলের প্রধান অফিসে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর জেরি ব্রাউন এ প্রকল্প বাস্তবায়নে অনুমতিপত্রে সই করেছেন। গুগল এ ধরনের অটোনোমাস গাড়ির জন্য অনেকটা দীর্ঘ সময় ধরেই প্রস্তুতি নিয়েছে। আর তাতে কারিগরি সম্মতিও মিলেছে। এখন অপেক্ষা এ পদ্ধতিতে আরো সুক্ষ্ম আর নিখুঁত করে তোলার গবেষণা চালিয়ে যাওয়া।

গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিন বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যেই এ প্রযুক্তিকে মানুষ সাধারণভাবে গ্রহণ করবে। মানুষ নিয়ন্ত্রিত গাড়ির তুলনায় এ প্রযুক্তি অনেক বেশি সড়কবান্ধব এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রক। এটা বুঝতে এবং সুফল উপলব্ধি করতে মানুষের কিছুটা সময় লাগবে। এ জন্য তাড়াহুড়ো না করে ধীরেই এগোবে গুগল। বিশ্বাস অর্জন করেই এ প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রচারণা নিশ্চিত করা হবে। জীবনের অত্যাধুকিতার ছোঁয়া লাগতে আর খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না।

গুগল এখন চালকহীন ড্রাইভার তৈরিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর তাতে সরকারি ছাড়পত্রও পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা শহরের রাস্তায় এখন তাই মাঝেমধ্যে গুগল নিয়ন্ত্রিত চালকহীন গাড়ি চলতে দেখা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব মটোর ভেহিক্যাল (ডিএমভি) সূত্র জানিয়েছে, অনেক দিন গুগল চালকহীন গাড়ি পরিচালনায় পরীক্ষা চালিয়ে আসছিল। এবারে এ পরীক্ষার সফলতায় দেওয়া হলো আইনি ছাড়পত্র। এ ধরনের ছাড়পত্রকে ‘অটোনোমাস ভেহিক্যাল লাইসেন্স’ বলা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ১ মে থেকে এ ধরনের পরীক্ষার সরকারি অনুমতি পাওয়া যায়। তবে নেভিগেশন ঘরানার এ প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য এর কার্যকারিতা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজনীতা আছে।

এরই মধ্যে টয়োটা ‘প্রিয়ুস’ সিরিজের গাড়িতে এ প্রযুক্তির সফল ব্যবহার দেখা গেছে। স্টানফোর্ড অধ্যক্ষ এবং গুগলের সহ-সভাপতি সেবাস্টিয়ান ট্রুন জানান, গুগলে সেলফ ড্রাইভেন গাড়ি পরিচালনায় ক্যামেরা, রাডার সেন্সর, লেজার এবং তথ্যভিত্তিক ডাটার সমন্বয়ে এ গাড়ি সড়কে নির্ভুলভাবে চলবে।

সুদীর্ঘ পরীক্ষার কয়েকটি ধাপে এ প্রযুক্তি সফলতা অর্জন করেছে। আর এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ছাড়পত্র দিতেও আর কোনো আপত্তি নেই। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র সরকার গুগল নিয়ন্ত্রিত চালকহীন প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে। আর এ বিশেষ প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রিত গাড়ি তৈরিতে গুগলকে অটোমোবাইল খাতে সহযোগিতা করবে বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা টয়োটা।

ব্লগার

পোষ্টটি লিখেছেন: ব্লগার

এই ব্লগে 25 টি পোষ্ট লিখেছেন .

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।

ব্লগার

About ব্লগার

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।
Bookmark the permalink.

Comments are closed.