বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ

৩৩ বছর পর কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালে জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৩৬ রানে হারিয়েছে তারা।

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ৫৬ বলে ৬টি বিশাল ছক্কা ও ৩টি চারে সাজানো মারলন স্যামুয়েলসের ৭৮ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংসে ড্যারেন স্যামির দলের স্মরণীয় জয়ের ভিত রচিত হয়। এর পর বোলার-ফিল্ডারদের সাফল্যে আসে জয়।

১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা ভারত ও পাকিস্তানের পর তৃতীয় দল হিসেবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুলল।

গত ৫ বছরে বিশ্বকাপ ফাইনালে এটি শ্রীলঙ্কার চতুর্থ হার। ২০০৭ ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সঙ্গে পেরে উঠেনি দলটি। আর ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালে তারা হারে পাকিস্তানের কাছে।

রোববার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৩৭ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ১৮ ওভার ৪ বলে ১০১ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৬ রানে শূন্য হাতে তিলকারতেœ দিলশানের বিদায়ে শ্রীলঙ্কার শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। দ্বিতীয় উইকেটে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা (২২) ও অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনের ৪২ রানের জুটি প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেয়।

দলীয় ৪৮ রানে স্যামুয়েল বদ্রির বলে কাইরন পোলার্ডের ক্যাচে পরিণত হয়ে সাঙ্গাকারার বিদায়ে বড় একটা ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর ২১ রানের মধ্যে জয়াবর্ধনেসহ (৩৩) আরো ৫ ব্যাটসম্যান সাজঘরের পথ ধরলে চালকের আসনে বসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এরপর কুলাসেকারার ১৩ বলে ২৬ রানের ইনিংস পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে কেবল।

৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সুনীল নারায়ণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা বোলার।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে জনসন চার্লস রানের খাতা খুলার আগেই সাজঘরের পথ ধরলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটাও ভালো ছিল না। ঝড় তোলার আগেই ক্রিস গেইলের (৩) বিদায় স্যামির দলের বিপদ বাড়ায় আরো।

শ্রীলঙ্কার বোলারদের আঁটোসাটো বোলিংয়ে শুরুতে রানের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের। ১০ ওভার শেষে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে মাত্র ৩২ রান সংগ্রহ করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন অঙ্কের কোঠায় পৌঁছানো নিয়েই জেগেছিল শঙ্কা।

সেখান থেকে তৃতীয় উইকেটে ডোয়াইন ব্রাভোর (১৯) সঙ্গে স্যামুয়েলসের ৫৯ রানের জুটি স্বস্তি¡ ফেরার ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে। অজন্তা মেন্ডিসের করা একাদশ ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্যক্তিগত ২০ রানে নুয়ান কুলাসেকারার হাতে স্যামুয়েলস জীবন না পেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপদ আরো বাড়তে পারতো।

স্যামুয়েলস-স্যামির আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শেষ ১০ ওভারে ১০৫ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্যামি ১৫ বলে অপরাজিত থাকেন ২৬ রানে।

১২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অজন্তা শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার। পেসার লাসিথ মালিঙ্গার ৪ ওভার থেকে ৫৪ রান আসে। স্যামুয়েলস তার ১১ বল থেকে নেন ৩৯ রান।

ব্লগার

পোষ্টটি লিখেছেন: ব্লগার

এই ব্লগে 25 টি পোষ্ট লিখেছেন .

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।

ব্লগার

About ব্লগার

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।
Bookmark the permalink.

Comments are closed.