আমাদের সৌর মন্ডলের অন্যান্য গ্রহ বাদ দিয়ে শুধু পৃথিবীতে কেন প্রানের বিকাশ হলো?

আমাদের সৌর মন্ডলের অন্যান্য গ্রহ বাদ দিয়ে শুধু পৃথিবীতে কেন প্রানের বিকাশ হলো? ইতিপূর্বে উপরোক্ত প্রশ্নটির অনেক জবাব অনেকেই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। যেমন কেও বলেছেন, আমাদের জীবনের বিকাশ বা অস্তিত্য আসলে অনেক অনেক উদ্দেশ্যহীন ঘটনার সমষ্টি, আমাদের পৃথিবী সূর্য হতে পরিমিত দুরে অবস্থিত এবং জীবন ধারনের পর্যাপ্ত উপাদান যেমন পানি এবং বায়ুমন্ডল বিদ্যমান এবং একটি চাদ নিদৃষ্ট দুরে আছে যা জোয়ার ভাটা সহ জৈবচক্রে একটি বিশাল গুরত্বপূর্ন ভুমিকা রাখে। পৃথিবীর মতো এ সবের কিছুই অন্যকোন গ্রহে দেখা যায়না তাই প্রানের বিকাশ পৃথিবীতে ঘটেছে। কেও বলেছেন পৃথীবি ছাড়া অন্য গ্রহগুলি হয় খুব ঠান্ডা অথবা গরম, বিষাক্ত গ্যাস সম্পন্ন, মহাকর্ষ শক্তি বেশি, পানির অভাব ইত্যাদি যা তাদের প্রানের অস্তিত্বের অযোগ্য করেছে তাই পৃথিবীতেই প্রানের অস্তিত হয়েছে।
উপরোক্ত উত্তর গুলি একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কিংবা ধারনা দিল ঠিকই কিন্তু তারপরও তা কৌতুহল নিবারনের জন্য যথেষ্ট নয়। কারন উপরোক্ত উত্তরগুলো পৃথিবীকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে দেওয়া হয়েছে, এবং পৃথিবীর তুলনায় অন্যান্য গ্রহকে স্ট্যান্ডার্ডহীন বিবেচনা কর
া হয়েছে। মুক্তভাবে চিন্তা করলে আমরা সহজেই কল্পনা করতে পারি যে সৌর মন্ডলের গ্রহগুলো সূর্য থেকে তৈরি এবং প্রাথমিক উৎপত্তির ধাপ বা ফেজ সকল গ্রহের ক্ষেত্রে একই। যেমন প্রথমে সকল গ্রহ খুবি উৎতপ্ত ছিল তার পর ধিরে ধিরে ক্রমবিবর্তন এর মধ্যদিয়ে বর্তমান স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে।
এই পরিবেশগত ক্রমবিবর্তনের ফলে সুর্য হতে মাত্র ১৫ কোটি মাইল দুরে অবস্তিত শুধু মাত্র একটি গ্রহেই প্রানের বিকাশের জন্য পানি, অক্্িরজেন সহ নানা সরঞ্জাম প্রস্তুত হলো আর অন্যগ্রহ গুলি বন্ধ্যা থেকে গেল এর কারন কি? তাহলে কি জৈব উপাদানের সমস্ত সরঞ্জামের প্রস্তুতপ্রণালীর রহস্য এই তাপ বা উৎপন্ন নক্ষত্র থেকে গ্রহের একটি নির্ধারিত দুরত্বের সাথে সম্পর্কিত ? তাহলে আরও প্রশ্নর উৎপত্তি করা যায়ঃ
১) পৃখিবীর কাছাকাছি থেকেও চাদে কেন প্রানের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি কিংবা কাছাকাছি পরিবেশ সৃষ্টি হয় নি? চাদের সাথে পৃথিবীর মহাকর্ষ টানের পার্থক্য ৫/৬ ভাগ। এটাই কি এক্ষেত্রে বড় কারন ? তাহলে গ্রহের বা উপগ্রহের গোলকীয় আকারো একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেব বিবেচনা করতে হবে।
২) আমাদের সৌরমন্ডলের সূর্য আর পৃথিবীর যে সম্পর্ক বা দুরুত্ব সেই সম সম্পর্ক কি মহাকাশের অন্যকোন সৌরমন্ডলে বিরাজ করছে না ? করে থাকলে সেখানে শুধু প্রানের বিকাশ নয় আমদের মতো মানুষই পাওয়া যাওয়া কথা। এতো দিনেও যেহেতেু সেরকম কোন খবর আসেনি সেহেতু হয় এরকম সম্পর্কিত সৌরমন্ডল নেই অথবা থেকে থাকলে মজার কোন কারনে জৈব জগৎ সৃষ্টি হয় নি।
৩) এরকম কি প্রানী থাকা সম্ভব নয় যার জন্য আসলে পৃখিবীর মতো পরিবেশ প্রযোজ্য নয়? যেমন মঙ্গল গ্রহে এমন প্রানী থাকতেই পারতো যারা আসলে অধিক ঠান্ডা পছন্দ করে, পানির প্রয়োজন হয় না।
তাছাড়া মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান প্রানী থাকলে সসার দিয়ে মাঝে মাঝে উড়াউড়ি না করে কিংবা উকিজুকি না দিয়ে এতোদিনে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে ফেলার কথা কিংবা জানান দেওয়ার কথা। উপরোক্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো একটি বিষয় আর তা হল “প্রান”। প্রান কি? বা আতœা কি? এ প্রশ্নটির সাথে অনেক কিছুকেই জড়ানো যায় কিংবা উত্থাপিত বিষয়টির একটি সুড়াহা করে প্রান সম্পর্কে একটি ব্যখ্যা দাড় করানো যেতে পারে। তা না হলে প্রান বা আতœা আমাদের কাছে অ্যামিনো এসিডের একটি ঝাপসা বিক্রিয়া কিংবা অস্তিত্বহীন বলে এড়িয়ে যাবার মতো একটি অবৈজ্ঞানিক বিষয় হয়ে বিরাজ করবে।
আমাদের সৌর মন্ডলের অন্যান্য গ্রহ বাদ দিয়ে শুধু পৃথিবীতে কেন প্রানের বিকাশ হলো?

ব্লগার

পোষ্টটি লিখেছেন: ব্লগার

এই ব্লগে 25 টি পোষ্ট লিখেছেন .

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।

ব্লগার

About ব্লগার

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।
Bookmark the permalink.

Comments are closed.