বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের ধান কাসালাথ

কাসালাথ নামের যে ধানটি নিয়ে বিশ্বে হৈচৈ পড়েছে তা আমাদেরই ধান। এই বাংলাদেশের সিলেটেরই ধান। নেচার সাময়িকী যাকে ‘ভারতীয় বুনো ধান’ বলে অভিহিত করেছিল, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) অবশেষে সে ধানকেই বাংলাদেশের বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। এক্ষেত্রে মূল অবদান রাখেন বাংলাদেশি জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। নেচার সাময়িকীতে কাসালাথের উৎপত্তিস্থল নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য প্রকাশের পর ইরিতে তার প্রতিবাদ জানান ড. আবেদ। তিনি জানান, এটি বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া ধান। সাত বছর ধরে তিনি নিজে এ ধান নিয়ে কাজ করছেন।
ইতিমধ্যে এ ধানের চাষও করেছেন। এরপরই কাসালাথ সংক্রান্ত এক নিবন্ধে ইরির ওয়েবসাইটে বলা হয়, এটি বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের ধান।
অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী সম্প্রতি দেশে ফিরে এ সুখবরটি দিয়েছেন।

বাংলাদেশের মাটিতে চাষ হয় তবে কৃষির জন্য কী উপকার হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে আবেদ চৌধুরী বলেন, কাসালাথ ধানে একটি অতিরিক্ত জিন আছে, যা ফসফরাস ধারণ করে। আমরা প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার সার খরচ করি ধান চাষে। কাসালাথের ক্ষেত্রে তা হবে না। কাসালাথের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি মোট ২৫ ভাগ ধান উৎপাদন বাড়িয়ে দেবে।
হারিয়ে যাওয়ার পর ধানটিকে এভাবে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে আবেদ চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রাচীন ধান নিয়ে আমরা বিচলিত ছিলাম না, আমরা উদাসীন ছিলাম। খাদ্য সংকটের মুখে, পরিবর্তিত পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের খাদ্য সংকট হুমকির মুখে। এখন আমরা আফসোস করছি আমাদের অতীতের জন্য। বাংলার শত শত প্রজাতির ধান হারিয়ে না গেলে ধানে দুনিয়াসেরা বৈচিত্র্য থাকত আমাদের হাতে।
মৌলভীবাজার জেলার হাজীপুর গ্রামে বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরীর বাড়ি। তার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে গড়ে তুলেছেন ধান পরীক্ষা মাঠ। আড়াই বছর ধরে চলছে ধানের বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এগুলোর কোনোটি লবণাক্ততা সহনীয়, কোনোটি বন্যা সহনীয়। ধান গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের হারিয়ে যাওয়া ধান নিয়ে আমি নতুনভাবে কাজ করতে চাই। ধানের তথ্যভা ার গড়ে তোলার ইচ্ছা আছে। এর ফলে নতুন উন্নত জাতের ধান খুঁজে পেতে পারি আমরা। আধুনিক ধানবিজ্ঞানের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি এগিয়ে যাবে আরও বহুদূর।
আবেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট হেলথ, ম্যাসাচুসেট?স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ফ্রান্সের ইকোল নরমাল সুপিরিয়রের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও গবেষণা করেছেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থায় একদল বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে গঠিত গবেষক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অরেগন স্টেট ইনস্টিটিউট অব মলিকুলার বায়োলজি এবং ওয়াশিংটন স্টেটের ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ ইনস্টিটিউটে পাঠ নেন। ১৯৮৩ সালে পিএইচডি গবেষণাকালে তিনি রেকডি নামে জেনেটিক রিকম্বিনেশনের একটি নতুন জিন আবিষ্কার করেন, যা নিয়ে আশির দশকে আমেরিকা ও ইউরোপে ব্যাপক গবেষণা হয়।
কাসালাথকে নিয়ে উচ্ছ্বাসের শেষ নেই বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরীর। হারিয়ে যাওয়া ধানকে ফিরে পাওয়া কি চাট্টিখানি কথা? নিজের সামাজিক যোগাযোগ সাইটে তিনি বলেছেন, ‘তোমায় নতুন করে পাবো বলে হারিয়ে ছিলাম ধান’!

ব্লগার

পোষ্টটি লিখেছেন: ব্লগার

এই ব্লগে 25 টি পোষ্ট লিখেছেন .

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।

ব্লগার

About ব্লগার

সম্পাদক জনকন্ঠ ব্লগ।
Tagged , , . Bookmark the permalink.

Comments are closed.