জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের তাণ্ডব

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা এক শিক্ষার্থীকে অমানবিকভাবে মারপিট করে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরও লাঞ্ছিত হয়েছেন তাদের হাতে। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির একটি মাইক্রোবাসও ভাংচুর করা হয়। আজ সোমবার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেহের চত্ত্বরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভয়ে দৌড় দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে বাধা দেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভুত এ পরিস্থিতিতে আজ সন্ধ্যায় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভা ডাকা হয়েছে বলে উপাচার্য জানিয়েছেন।

প্রত্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১২টায় ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা আহমেদ ফয়সাল মরসালিন নামে এক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে কিছু শিক্ষার্থী তাকে উত্যক্ত করতে থাকে। অর্থনীতি বিভাগের ৪০তম ব্যাচের সাগর ও বোটানি বিভাগের একই ব্যাচের সৌরভসহ বেশ কিছু ছাত্র এতে অংশ নেয়।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সিকদার মো: জুলকারনাইনকে ঘটনাস্থলে হাজের হন। তিনি মাইক্রোবাসে করে ওই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে দিতে গেলে ছাত্রলীগের ক্যাম্পের সামনে কিছু শিক্ষার্থী মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে মাইক্রো বাসের ভিতরে থাকা ওই ছাত্রকে মাইক্রোবাসের জানালা দিয়ে মারপিট করতে থাকে। এ সময় সহকারী প্রক্টর ওই মাইক্রোবাসের ভেতরে ছিলেন।

এ পরিস্থিতিতে জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি নেতা-কর্মীদেরকে নিয়ে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে ওই ছাত্রকে প্রথমে বাঁচানোর চেষ্টা করে। হঠাৎ পেছন থেকে এক ছাত্র চিৎকার করে বলে ভর্তিচ্ছু ওই শিক্ষার্থী সভাপতিকে মেরেছে। এর পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ছাত্রলীগের যারা ওই ছাত্রকে বাঁচাতে আসে তারাই শুরু করে নারকীয় তাণ্ডব। প্রথমে মাইক্রোবাসটি ভাংচুর করা শুরু করে ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মীরা।

এক পর্যায়ে ওই ভর্তি পরীক্ষার্থীকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে নির্মমভাবে মারতে থাকে। এতে ওই ছাত্র অচেতন হয়ে পড়ে। সহকারী প্রক্টর জুলকার নাইনও লাঞ্ছিত হন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের সহায়তায় একটি রিক্সায় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে পাঠানো হলে রাস্তায় আরেক দফা মারপিট করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। পরে পুলিশের সহায়তায় পুলিশ ভ্যানে সাভারের গণসাস্থ্য মেডিকেল কলেজ হাপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে।

আহত ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেলে নিতে বলেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। তবে ছাত্রলীগের কর্মীদের বাধার মুখে পড়লে

আহত ভর্তিচ্ছু আহমেদ ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, তিনি পরীক্ষা দিয়ে বের হলে কিছু ছাত্র তাকে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে তাকে কান ধরে উঠবস করায়। পরে একজন শিক্ষক তাকে সাথে নিয়ে মাইক্রোবাসে ‌ওঠান। তার পরও তাকে মারটিপ শুরু করে ছাত্ররা।

জাবির মেডিকেলের দায়িত্বরত চিকিৎসক শ্যামল কুমার রায় বলেন, ওই ছাত্রের মুখে, ঠোঁটে, চোখের উপরে আঘাতে করা হয়েছে। পায়ের হাঁটুতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলের সামনে এম্বুলেন্স থাকার পরও কেন পুলিশ ভ্যানে আহত ভর্তিচ্ছুকে পাঠানো হল জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলতে বলেন।

ছাত্রলীগের অভিযোগ, ঐ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আগে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আঘাত করায় তারা তাকে মারধর করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দু:খজনক। খবর পেয়ে আমি ওই ছাত্রকে চিকিৎসার জন্য চিফ মেডিকেল অফিসারকে সকল প্রকার ব্যবস্থা নিতে বলেছি। সন্ধ্যায় ডিসিপ্লিনারী বোর্ডের সভা ডাকা হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের কেউ পার পাবে না।

স্বর্ণালী আবেগ

পোষ্টটি লিখেছেন: স্বর্ণালী আবেগ

এই ব্লগে এটাই স্বর্ণালী আবেগ এর প্রথম পোষ্ট.

Bookmark the permalink.

Comments are closed.